
বরিশালে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ মির্জাগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের পরেও থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের , তদন্তে গড়িমসি
এস এম নওরোজ হীরা বরিশাল
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে (আসমা বেগম) জোরপূর্বক ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তার ননদের স্বামী (নন্দাই) মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লার (৪৮) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রথমে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায়, পরবর্তীতে আদালতের (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) শরণাপন্ন হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাংবাদিকদের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
মামলার এজাহার ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আসমা বেগমের স্বামী মোঃ ফরিদ উদ্দিন কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মোল্লা কৌশলে বাদীর শোবার ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত সালাম মোল্লা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী আসমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর তার স্বামী বাড়িতে ফিরে এলে তারা গত ৩০ জুন মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রথমে মামলাটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মা বেগম বেগমের স্বামী মোল্লা, ভাসুর মনির হোসেন , আশিকুর রহমান মানিক, মোঃ সোহেল প্রমুখ।
আসমা বেগমের জাল ফারজানা আক্তার অনু অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত সালাম মোল্লা তাকে ১ লাখ টাকা দিয়ে রফা-দফা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস না করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হলে, তারা আদালতের দ্বারস্থ হন এবং বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর স্বামী মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, তার স্ত্রীর ওপর ঘটে যাওয়া এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তিনি শক্তভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে এই জঘন্য অপরাধের উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। আসমা বেগমের ভাসুর মনির হোসেন বলেন ধর্ষক সালাম মোল্লা তার আপন বোন জামাই । সালাম মোল্লার দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। সালাম মোল্লার ছেলে বলেছে টাকা হলে সমস্ত মামলা থানা থেকে ফয়সালা করা যায় ।
ভুক্তভোগী আসমা বেগম অশ্রুভেজা কণ্ঠে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, “আমার সাথে যেটা হয়েছে, সমাজ বা দেশের অন্য কোনো মেয়ের সাথে যেন আর এমন ঘটনা না ঘটে।” এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আল্লাহর তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলা নম্বর চার। তারিখ ১০/৭/২৬, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)। ওসি নুরুল ইসলাম বলেন ভি ক্রিম কে বারবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও ফোন রিসিভ করেননি। ভিকটিমের বাড়ি যাওয়া হয়েছে,মেডিকেল রিপোর্ট করার জন্য এবং ২২ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করার জন্য। কিন্তু তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি । পরবর্তীতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ভিক টিমের বাড়িতে নোটিশ জারি করে আসা হয়েছে ।